তীরন্দাজ অনুবাদ
ক্যাথরিন কবহ্যামের আরবি থেকে ইংরেজি অনুবাদ অবলম্বনে কবিতাগুলো বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।
সবুজ মাছিরা
এই ছবি চিরচেনা। সেই গ্রীষ্ম, সেই স্বেদ, আর এক রুদ্ধ কল্পনা, যা দিগন্তের ওপারে তাকাতে পারে না। আজকের দিনটি আগামীকালের থেকে ভালো। কিন্তু কেবল মৃতরাই এখানে নতুন। তারা প্রতিদিন জন্ম নেয়, আর যখনই তারা একটু ঘুম যাবার চেষ্টা করে, মৃত্যু তাদের সেই তন্দ্রা থেকে টেনে নিয়ে যায় এক স্বপ্নরহিত প্রগাঢ় ঘুমের ভেতর। তাদের গুনে কোনো লাভ নেই। তাদের কেউ কারো কাছে সাহায্য চায় না। বুকখোলা মাঠে কণ্ঠস্বরগুলি শব্দ হাতড়ে ফেরে, আর প্রতিধ্বনি ফিরে আসে স্পষ্ট ও যন্ত্রণাকাতর স্বরে, ‘এখানে কেউ নেই।’ অথচ কেউ একজন বলছে, ‘খুনির অধিকার রক্ষা করা খুনির স্বভাব,’ আর লাশগুলি অনেক দেরি করে বলে ওঠে, ‘চিৎকার করবার অধিকার রক্ষা করা নিপীড়িতের অধিকার।’
আজান বাজে অজ্ঞাত সব দাফনের সঙ্গী হবে বলে। কফিনগুলি দ্রুত কাঁধে তোলা হয়, তড়িঘড়ি করে কবর দেওয়া হয়, জানাজা পড়ার ফুরসৎও নেই কিছু। আরও সব হত্যাযজ্ঞের পর আরও লাশ আসছে দ্রুত, কেউ একা, কেউ সদলবলে, অথবা পুরো একটা পরিবার, যাদের পেছনে কোনো অনাথ শিশু বা শোকাতুর মা-বাবাও অবশিষ্ট নেই। আকাশ সীসার মতো আর সমুদ্র নীলচে ধূসর, কিন্তু রক্তের লালটুকু ক্যামেরার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে, সবুজ মাছির ভিড়ে।
Green flies
যেন গদ্যকবিতা
বনপাহাড়ের বুকে শারদীয় স্পর্শে এই গ্রীষ্ম যেন এক গদ্যকবিতা। এই মৃদু হাওয়া যেন এক ধীর লয়, আমি অনুভব করি, কিন্তু ছোটো ছোটো শাদামাটা গাছগুলির ভেতর তার শব্দ শুনতে পাই না। আর হলুদাভ গাছের শাবকগুলি যেন খসে পড়া একেকটা দৃশ্যকল্প। বাগ্মিতা তার ধূর্ত সব ক্রিয়াপদ দিয়ে কেবল উসকে দেয় নতুন সব উপমা। এই পাহাড়ের পথে উৎসব বলতে কেবল চঞ্চল চড়ুইপাখিদের আনাগোনা, যারা অর্থ ও অনর্থের মধ্যখানে ডানা ঝাপটায়। প্রকৃতি যেন এক শরীর, যা নিজেকে তুচ্ছ সব অলংকার থেকে মুক্ত করছে, যতক্ষণ না ডুমুর, আঙুর আর ডালিম পেকে ওঠে এবং বৃষ্টি জাগিয়ে তোলে বিস্মৃত বাসনা সকল।
‘কবিতার প্রতি আমার এই রহস্যময় টান না থাকলে, আমার আর কিছুই লাগত না,’ বলেন সেই কবি, যার উদ্দীপনা স্তিমিত হয়ে এসেছে, ফলে তিনি আগের চেয়ে কম ভুল করেন এখন। তিনি হাঁটছেন, কারণ ডাক্তার তাকে হাঁটতে বলেছে। নির্দিষ্ট গন্তব্য ছাড়াই তিনি হাঁটছেন, কেবল নিজের হৃৎপিণ্ডকে নির্লিপ্ততায় অভ্যস্ত করতে, সুস্থ থাকতে যা আজ বড়ো প্রয়োজন। এখন তার মাথায় আসা যেকোনো চিন্তা হবে একেবারেই অযাচিত।
গ্রীষ্ম খুব কমই নিজেকে পদ্যকবিতার ছন্দে সঁপে দেয়। গ্রীষ্ম সে তো মূলত গদ্যকবিতা, আকাশের ওপরে চক্রমিত ইগলপাখিদের প্রতি যার এক কণাও আগ্রহ নেই।
Like a prose poem
পাথর হতাম যদি
আমার কোনো কিছুর জন্যে আকুতি থাকত না।
না কোনো গত হয়ে যাওয়া কালের জন্যে,
না কোনো অনাগত কালের জন্যে
আর আমার বর্তমান, সেও এগিয়ে যেত না,
কিংবা পিছিয়ে পড়ত না। আমার সঙ্গে কিছুই ঘটত না!
পাথর হতাম যদি, আমি বললাম,
ওহ, আমি যদি হতাম তেমন কোনো পাথর,
জল আমাকে ঘষে ঘষে করে তুলত সবুজ কিংবা হলুদ,
আমাকে কারো ঘরে সাজিয়ে রাখা হত ভাস্কর্যের মতো,
অথবা ভাস্কর্য বানানোর জন্যে, কিংবা
অপ্রয়োজনের মূর্খতা থেকে প্রয়োজনীয় কোনো কিছুর
সহসা উদ্ভাসনের উপাদান হিসেবে।
পাথর হতাম যদি,
অন্তত কোনো কিছুর জন্যে আমার বাসনা জাগত!
If only I were a stone


Leave feedback about this