তীরন্দাজ অনুবাদ
আব্দুল রহিম খান-ই-খানা (১৫৫৬-১৬২৭) মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু একজন দক্ষ সেনাপতি বা রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং একাধারে কবি, পণ্ডিত ও দার্শনিক হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। রহিম নামেই তিনি কবিতা প্রকাশ করতেন, এই নামেই তিনি বেশি পরিচিত। তাঁর কবিতা, বিশেষ করে তাঁর হিন্দি দোহা (দ্বিপদী অর্থাৎ দুই পঙক্তির কবিতা) ভারতীয় সাহিত্যের অমর সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তাঁর জীবন, কাজ, দর্শন ও কবিতা ভারতীয় সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয়ের প্রতীক। বহু শতাব্দী ধরে এগুলো মানুষকে প্রভাবিত করে আসছে।
আব্দুল রহিম খান-ই-খানা ১৫৫৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বৈরাম খান ছিলেন হুমায়ুনের প্রধান সেনাপতি ও আকবরের অভিভাবক। মা ছিলেন মেওয়াতের সুলতানের কন্যা। রহিমের শৈশব কেটেছিল মুঘল দরবারের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে। তিন বছর বয়সে তিনি পিতৃহীন হন যখন বৈরাম খানকে হত্যা করা হয়। এরপর আকবর তাঁকে নিজ দায়িত্বে লালন-পালন করেন ও তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। রহিম ফারসি, আরবি, তুর্কি, সংস্কৃত ও হিন্দি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি সংস্কৃত শাস্ত্র, কাব্য ও দর্শনেও গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
রহিম মুঘল দরবারে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আকবর তাঁকে ‘খান-ই-খানা’ (খানদের খান) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। তিনি ছিলেন আকবরের রাজসভার নবরত্নের অন্যতম। তিনি গুজরাট, সিন্ধু ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শাসনকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিজের শাসনামলে তিনি বিভিন্ন স্থানে গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রাখেন।
রহিম ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক। তিনি কবি, পণ্ডিত ও শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। তাঁর দরবারে হিন্দি, ফারসি ও সংস্কৃত সাহিত্যের চর্চা হতো। তিনি নিজে সংস্কৃত থেকে ফারসি ভাষায় বেশকিছু গ্রন্থ অনুবাদ করেছিলেন, যার মধ্যে রামায়ণ ও মহাভারতের ফারসি অনুবাদ উল্লেখযোগ্য। এই কাজ মুঘল দরবারে হিন্দু-মুসলমানের সাংস্কৃতিক সমন্বয়কে উৎসাহিত করেছিল।
তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ছিলেন। আকবরের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে আকবরের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীরের শাসনামলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কিছুটা হ্রাস পায়। জাহাঙ্গীরের পুত্র খুররম (পরে সম্রাট শাহজাহান) তাঁর পুত্রীকে বিয়ে করেন, যা তাঁর পরিবারের সঙ্গে মুঘল রাজবংশের সম্পর্ককে আরও গভীর করে। ১৬২৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সমাধি দিল্লির নিজামউদ্দিন এলাকায় অবস্থিত।
রহিমের দার্শনিক ভাবধারা ছিল মানবতা, সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সুফিবাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর চিন্তাধারায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতিফলন দেখা যায়। রহিম বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বরের নিকট সব মানুষ সমান। তিনি জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ নয়, বরং ঐক্য ও ভালোবাসাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি হিন্দুধর্ম ও ইসলামি ঐতিহ্যের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কবিতায় কৃষ্ণপ্রেম ও ইসলামি মরমিবাদ তথা সুফিবাদের মিশ্রণ দেখা যায়। রহিমের দর্শনে বৈরাগ্য ও ভক্তির বিশেষ স্থান ছিল। তিনি দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ত্যাগ করে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের পথ অনুসরণ করতেন।
রহিমের দর্শন তাঁর কবিতার মতোই বাস্তবমুখী ও মানবিক। তিনি মনে করতেন, মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্যবোধ নির্ভর করে তার কর্ম, আচরণ ও নৈতিকতার ওপর। তাঁর দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষকে তার কর্মের দ্বারা বিচার করা উচিত, বংশ বা সম্পদ দিয়ে নয়। তাঁর দোহায় সততা, দয়া ও সহানুভূতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রহিম তাঁর কবিতায় কর্মফলের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলতেন, সঠিক কাজ করলে তার ফল একদিন না একদিন পাওয়া যাবে, তাই ধৈর্য হারানো উচিত নয়। তিনি প্রেম ও বন্ধুত্বের মতো মানবিক সম্পর্কগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করতেন। তাঁর দোহায় বন্ধুত্বের গুরুত্ব ও এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। যদিও তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন, তাঁর কবিতায় হিন্দু ধর্মের অনেক দেব-দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর এক এবং তাঁকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। তাঁর আধ্যাত্মিকতা ছিল সমন্বয়বাদী।
রহিম একজন দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। গরিবদের দান করার সময় তার অদ্ভুত নম্র আচরণের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি যাকে দান করতেন তার দিকে কখনও তাকাতেন না, দৃষ্টি নমিত রেখে দান করতেন। তুলসীদাস যখন রহিমের দান করার আচরণিক এই দিকটি সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন তিনি তৎক্ষণাৎ একটি পংক্তি লিখে রহিমের কাছে পাঠান,
‘কেন এভাবে দান করতে হবে? তুমি এটা কোথা থেকে শিখলে? তোমার হাত যত উঁচু, তোমার চোখ তত নিচু।’
তুলসীদাস তার কর্মের কারণ সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত ছিলেন, কেবল তাকে উত্তরে কয়েকটি লাইন বলার সুযোগ দিচ্ছিলেন। এই উপলব্ধি করে তিনি তুলসীদাসকে লিখেছিলেন :
“দাতা অন্য কেউ, দিনরাত দান করে। কিন্তু পৃথিবী আমাকে কৃতিত্ব দেয়, তাই আমি আমার চোখ নামিয়ে রাখি।”
রহিমের সবচেয়ে বড় পরিচিতি তাঁর কবিতার জন্য। তিনি মূলত দোহা রচনার জন্য বিখ্যাত। তাঁর দোহাগুলো সহজবোধ্য হলেও গভীর দার্শনিক অর্থ বহন করে। তিনি বিভিন্ন ভাষায় লিখেছেন, তবে তাঁর হিন্দি কবিতাগুলিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
তাঁর কবিতায় মানব সম্পর্কের জটিলতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য ও ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এমন সরল ভাষায় জীবন ও জ্ঞানের কথা বলেছেন, যা সাধারণ মানুষের মনেও সহজে প্রভাব ফেলে।
তার কবিতায় মুঘল ও ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখা যায়। তিনি হিন্দি, ফার্সি, সংস্কৃত ও ব্রজবুলিতে কবিতা রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত দোহাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তবতা ও নৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন।
তাঁর দোহাগুলি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তিনি তুলসীদাস, সুরদাসের সমসাময়িক ছিলেন এবং ভক্তি আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁর কবিতা শুধু সাহিত্যের জন্য নয়, সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতির জন্যও অবদান রেখেছে।
রহিমের সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের চেতনা তাঁকে মুঘল যুগের একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব করে তুলেছিল। আকবরের সমন্বয়বাদী নীতির সঙ্গে তার ভাবনা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর দোহাগুলি আজও ভারতীয় সমাজে নৈতিক শিক্ষার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
রহিমের জীবন ও কবিতা আমাদের শেখায় যে, সত্য, প্রেম ও নম্রতাই জীবনের প্রকৃত সম্পদ। তাঁর ভাবগত উত্তরাধিকার ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অমর হয়ে থাকবে।
রহিমের কিছু দোহার ভাবানুবাদ এখানে দেওয়া হলো
১
চকোর যেমন চন্দ্রের দিকে
তাকায় নির্ণিমিখে
সব কিছু ভুলে তেমনিই হাঁটো
শুধু কৃষ্ণের দিকে।
২
ও রহিম, বড় চিকন এ গলি
দুজনের মতো নয়;
খুদি থাকলে তো খোদা থাকবে না,
রইলে সে – তুমি নয়।
৩
জালে ধরা পড়ে জলের মৎস্য
জল যেতে দেয় তাকে,
মাছ প্রাণ দেয় জলের বিরহে
দেখ তার প্রেমটাকে।
৪
দুই চোখে ভাসে প্রেমিকের ছবি
ভিন্ন কিছুর সুযোগ নাই,
অন্য সবাই এসে ফিরে যায়,
এইখানে আর জায়গা নাই।
৫
প্রেমের পথটা ভারি পিচ্ছিল
পিঁপড়ার পা-ও পিছলে যায়,
যদি ভাবে কেউ : গাড়ি চড়ে যাবে,
বড় ভুল তার, সে পস্তায়।
৬
প্রেমের সুতোকে ছিঁড়ো না কখনও
ঝাঁকিও না ভুলে তাকে,
ছিড়ে গেলে আর লাগে না তো জোড়া
লাগলেও গিঁট থাকে।
৭
জান্নাতে গিয়ে গন্দমছায়ে
বসে থেকে কোনো ফায়দা নাই,
বটের ছায়ায় প্রিয়জন নিয়ে
বসে থাকা ঢের কাজের ভাই।
৮
কাঠ যদি জ্বলে আগুনে তাহলে
নিভে যায় পুড়ে ছাই হলে,
প্রেমের আগুনে যারা পোড়ে তারা
নেভে না কখনও শুধু জ্বলে।
৯
লাভ-ক্ষতি বলো, লেন-দেন বলো
হিসাবে কি প্রেম হয়?
প্রাণ বাজি রেখে প্রণয়ে জড়ালে
হারলেও জিৎ হয়।
১০
মোমের তৈরি অশ্ব যেন-বা
আগ্নেয় পথে যায়,
প্রেমের রাস্তা বড়ই কঠিন
সকলে না উৎরায়।
১১
সে তো বালু নয়, তালুতে তুললে
ঝরে যাবে ঝরঝর;
সেটা প্রেম নয় সময় পেরোলে
মোছে যা অতঃপর।
১২
পরমে শরণ : এটাই নৌকা
পার হতে পারাবার;
আর কোনো পথ নাইরে জগতে
পেয়ে যেতে উদ্ধার।
১৩
বন্ধু আমার প্রাণ-মন নিয়ে গেছে
নিয়েছে কেড়ে হৃদয়,
সুখ-দুঃখের কাহিনি কি তাকে
বলা দরকার হয়?
১৪
তীরটা প্রথমে ধনুকের দিকে যায়,
সামনে ছোটে সে পরে;
আমিও প্রিয়র নিকটে এসেও
দূরে চলে গেছি সরে।
১৫
প্রিয়কে বেসেছি ভালো, মনে হয়
তাতে নন তিনি প্রীত;
আমি তো তুচ্ছ গোলাম, ভক্ত
আছে তার অগণিত
১৬
অবাক কাহিনি কাকে যে বলব :
ফোঁটার মধ্যে থাকে
পুরোটা সাগর; হারিয়ে গিয়েছে
খোঁজা হচ্ছিল যাকে।
১৭
আজব একটি কাহিনি শোনাই,
বোঝাই যায় না যে :
জানে যে – বলে না কখনও সে জন,
বলে যে – জানে না সে।
১৮
সওদাপাতি যা কিনবার আছে
কিনে ফেল এ-বাজারে,
এরপরে আর পাবে না সুযোগ
যেতে হবে বহু দূরে।
১৯
দুঃশ্চিন্তা যে চিতার চেয়েও কঠিন
নাই তাতে সন্দেহ,
চিতার আগুনে মৃতদেহ পোড়ে,
চিন্তায় জীবদেহ।
২০
বাতাস তো পারে দেহকে ওড়াতে
কাড়ে প্রাণ নিশ্চয়;
অবাক কাণ্ড, বাতাসেই জীব
শ্বাস টেনে বেঁচে রয়।
২১
কপট লোকের সঙ্গ নিও না,
চতুর-চালাক যারা
তুমি ক্ষেত ভরে ফলাবে শস্য,
কেটে নিয়ে যাবে তারা।
২২
আঁচল যেমন বাঁচায় দীপশিখাকে,
দীপের শিখায় কখনও-বা পোড়ে শাড়ি;
স্নেহে-প্রেমে যাকে করেছ লালন
হতে পারে সে-ও ভয়ানক সংহারী।
২৩
আজকাল আর দেখাই যায় না
যেই তরু ছায়াময়,
কাঁটাঝোঁপ আর ফণিমনসায়
চারিদিক ভরে রয়।
২৪
স্বাধীন জিহ্বা আপন খেয়ালে
যা খুশি তা বলে যায়,
মুখের ভিতরে নিরাপদ সে যে–
গাল থাপ্পড় খায়।
২৫
কার্যকারণ দেখ হে কেমন,
প্রদীপ আঁধার খায়;
নেভার বেলায় পরিণামে সে যে
কালো ধোঁয়া ওগড়ায়।
২৬
কাদাজলও বেশ মহৎ বিষয়,
ক্ষুদে প্রাণী তাতে পিপাসা মেটায়;
সাগরের বলো বড়ত্বটা কী?
তীর হতে তার ফিরি তৃষ্ণায়।
২৭
শুনো না কখনও মন্দ দেশনা,
রাম গেল বনে বাপের কথায়;
ভরত নেয়নি রাজত্ব তবু
গৌরব তার অল্প কি হয়?
২৮
কোটি টাকা পেয়ে তবুও যদি না
সম্মান কিছু থাকে
লাথি মারো ওই ঐশ্বর্যের
সম্মানহীনতাকে।
২৯
ফণিমনসার ডাল-পাতা নাই
নাই কোনো ফুল-ফল,
কাঁটায় কেবল মানুষ ফেরায়
এই তার সম্বল।
৩০
ভিতরে ভিতরে জ্বলছে আগুন
যায় না তো ধোঁয়া দেখা,
যে জন পুড়েছে এমন আগুনে
বোঝে সে এসব একা।
৩১
সকলই সাধবে এক সাধনায়,
এতে সাফল্য নয়;
তরুমূলে পানি দাও ঠিকঠাক
পাবে ফল নিশ্চয়।
৩২
স্বাতী তারা হতে একফোঁটা পানি
পেল কন্দ ও ঝিনুক ও সাপ,
হলো কর্পূর, মুক্তা ও বিষ
ফলায় যে যার যেমনটা মাপ।
৩৩
বহু লোক কাছে ঘেঁষবে তোমার
সম্পদ যদি অনেক থাকে,
আসল বন্ধু কে তা বোঝা যাবে
পড়বে যখন দুর্বিপাকে।
৩৪
জাম আর কলা একসাথে তুমি
যদি পেতে চাও, আছে কি উপায়?
জাম গাছ ডাল দোলায় ছন্দে,
বাতাসে কলার পাতা ছিঁড়ে যায়।
৩৫
মন যদি থাকে নিয়ন্ত্রণে
যাক সে যেখানে ইচ্ছা তার,
পানিতে যদি-বা পড়ে ছায়া তাতে
শরীর ভেজে না একটুও তার।
৩৬
গাছ নিজে তার ফল তো খায় না
পুকুর খায় না আপন জল,
সুজন জমায় সম্পদ তাতে
অপরের ঘটে সুমঙ্গল।

