Site icon তীরন্দাজ

রথো রাফি অনূদিত চার্লস বুকাউস্কির ১টি কবিতা | আমার সহনশীলতার রহস্য | তীরন্দাজ

আমি এখনও চিঠি পাই ডাকে, বেশি আসে ভেঙে পড়া
পুরুষদের কাছ থেকে, যারা পিচ্চি পিচ্চি ঘরে থাকে, কারখানায় কাজ করে
বা কোনো কাজই নেই, যারা থাকে
বেশ্যাদের সাথে বা থাকে নারী ছাড়াই, আশা নেই, আছে শুধু
মদ আর উন্মাদনা।

তাদের বেশিরভাগ চিঠিই লেখা দাগটানা কাগজে,
ধার না দেওয়া পেন্সিল দিয়ে
অথবা কালিতে
ছোট ছোট অক্ষর, বাঁদিকে হেলে থাকে

আর কাগজটা সচরাচর ছেঁড়া থাকে,
সাধারণত মাঝখান থেকে অর্ধেকটা জুড়ে
আর তারা বলে আমার লেখা তাদের ভালো লাগে,
তাদের অবস্থা থেকেই আমি লিখেছি, আর
তারাও তা বোঝে। সত্যি, তাদের একটা দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছি আমি,
তাদের অবস্থার কিছুটা স্বীকৃতি।

সত্যি, আমিও ছিলাম সেখানে, তাদের বেশিরভাগের
চেয়েও খারাপ অবস্থায়।
কিন্তু আমি ভাবি, তারা কি বুঝতে পারে তাদের চিঠিগুলো
কোথায় পৌঁছায়?
সঙ্গতভাবে, ওদেরকে একটা বাক্সে ফেলে দেওয়া হয়
ছয় ফুট উঁচু ঝোপের আড়ালে, যেখান থেকে লম্বা ড্রাইভওয়ে চলে গেছে
দুটো গাড়ি রাখার গ্যারেজ, গোলাপ বাগান, ফলের গাছ,
পশুপাখি, এক সুন্দরী মহিলা, এক বছর পর প্রায় অর্ধেক
পরিশোধ করা মর্টগেজ, একটা নতুন গাড়ি,
ফায়ারপ্লেস আর দুই ইঞ্চি পুরু একটা সবুজ গালিচা
আর আমার লেখালেখির জন্য একটা ছোট ছেলে,
একটা দশ ফুটের খাঁচায় রাখি ওকে একটা
টাইপরাইটারসহ, ওকে হুইস্কি আর চনমনে বেশ্যা খাওয়াই,
বেশ ভালোই পেটাই ওকে বেল্ট দিয়ে সপ্তাহে তিন কি চারবার।
আমার বয়স এখন ৫৯ বছর আর সমালোচকরা বলেন
আমার লেখা ভালো হচ্ছে আগের চেয়েও।

Exit mobile version