কবিতার উপহার
তোমার কাছে সমর্পিত একটি ইহুদি রজনীর সন্তান
কৃষ্ণবর্ণা, রক্তাক্ত ডানা, পেখমহীন ও ম্লান,
সুগন্ধি ও স্বর্ণদগ্ধ আর্শিতে আহত,
তুষারাবৃত শার্সি বিধ্বস্ত, হায়। এখন ক্ষীণালোকিত
প্রভাত দেবদূততুল্য প্রদীপ শীর্ষে দিল লাফ।
জয়ধ্বজ তালপত্র। এবং যখন সে ওই অবলুপ্ত অবশেষ করলে প্রদর্শন
পিতাকে যে প্রতিকূল হাসির প্রচেষ্টায় লিপ্ত,
নীলাভ ও নিষ্ফল নিঃসঙ্গতা শিহরিত।
ও দোলনা দোলান জননী, সঙ্গে শিশু কন্যা ও নিরীহতা
তোমাদের শীতল চরণে একটি ভয়ংকর প্রসব সম্ভাবনা
এবং তোমার কণ্ঠস্বর তানপুরা ও সেতারের সুর স্মরণ,
বিবর্ণ আঙুলে চেপে ধরবে কি তোমার স্তন
যেখানে শুভ্রপ্রবাহে বয়ে চলে ভবিষ্যতের নারীপ্রাণ
ওষ্ঠ অভিমুখে যার ক্ষুধা সতী সুনীল আকাশে খোঁজে পরিত্রাণ?
দীর্ঘশ্বাস
আমার হৃদয় তোমার কপাল যেখানে স্বপ্নাবিষ্ট, ও ভগিনী পরমা শান্ত,
একটি মেয়ে তার দাগ ছিটান হেমন্ত,
ও তোমার অস্পরীতুল্য গগনবিহারী নয়ন পানে
উড্ডীন, যেমন একটি বিষণ্ণ কুঞ্জবনে,
বিশ্বস্ত, একটি শুভ্রজলধারা নীলিমার দিকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
– সেই ফ্যাকাশে ও নির্মল কার্তিকে মজে যাওয়া আকাশ নীলে
তার অনন্ত অবসাদ বিশাল দীঘির জলে ঝলসায়
ও সেই স্রোতহীন মৃত সলিলে রেখে যায়
যেখানে শীতল গহ্বর খোঁড়ে বায়ুচারী পল্লবের হিংস্র পীড়ন,
মন্থরগতি হলদে সূর্যভরা সুদীর্ঘ কিরণ।
গ্রীষ্মের বিষণ্ণতা
সূর্য বালির উপর, ও ঘুমন্ত বিপ্লবী নারী
তোমার স্বর্ণকুন্তল উষ্ণ করে তোলে অবসন্ন স্নান
আর তোমার বিমর্ষ গণ্ডে শুষে নেয় ঘ্রাণ
ক্রন্দনে মেশায় সে কোন প্রণয়াসক্ত জল।
এই শুভ্র দীপ্তিতে অশ্রুত প্রশান্তি তোমাকে বলতে বলে
দুঃখ, ও আমার চুম্বন ভয়ে ম্লান
‘আমরা কখন একটি মাত্র মমিতে পাব না স্থান
এই প্রাচীন মরু ও প্রসন্ন খেজুর বৃক্ষ তলে?
কিন্তু তোমার কেশগুচ্ছ ঈষদুষ্ণ জলরাশি
যেখানে শিহরণবিহীন নিমজ্জন এ হৃদয় যাকে ভালবাসি
ও কোথায় পাওয়া যাবে সেই শূন্যতা যাকে তুমি চেন না।
আস্বাদ করব কাজল তোমার নয়ন পল্লবসিক্ত
দেখার জন্যে তুমি যে চিত্ত বিহ্বল করেছ তাকে সে দেয় কি না
নীলিমা ও মনিরত্নের নিরাবেগ অস্তিত্ব।


Leave feedback about this